৯ টার দিকে আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিস-অবশেষে ফাঁস হল ফাহাদ হ ত্যার আসল ঘটনা

৯ টার দিকে আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিস-অবশেষে ফাঁস হল ফাহাদ হ ত্যার আসল ঘটনা

বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদকে হ’ ত্যা র পর তার কক্ষে মা`দক রেখে ‘গ’ণপি টুনির নাট’ক’ সাজাতে চেয়েছিল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী।

এমনকি এই না`ট’ক সাজানোর জন্য রাতে পু’লিশ ডেকেও তাদের গাড়ি হল চত্বরে ঢু কতে দেয়নি ছাত্রলীগ। তবে ফাহাদ এর সহপাঠীদের পাহারা এবং পরবর্তীতে শিক্ষকদের তৎপরতার কারণে তাদের সেই অ’পচেষ্টা সফল হয়নি।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বুয়েটের শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থী ও পু’লি শের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

যেভাবে ডেকে নেওয়া হয় ফাহাদকেঃ৬ অক্টোবর রাত ৮ টা। শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বুয়েটের ১৭ তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ফাহাদ। এসময় ছাত্রলীগ কর্মী ও মেক্যানিক্যাল বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী মুনতাসির আল জেমি এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এহতেশামুল রাব্বি তানিম ওই কক্ষে আসে।

তারা এসে ফাহাদকে খুঁজতে থাকে। এসময় কক্ষে ফাহাদ এর ব ন্ধু ও রুমমেট অন্তিম পড়ছিলেন। ফাহাদকে তারা ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ঘুম থেকে উঠে ফাহাদ বিছানায় বসে। ফাহাদ ঘুম থেকে উঠলে জেমি তাকে বলে,

‘ভাইরা তোকে ২০১১ নম্বর রুমে ডাকে। তোর মোবাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে চল্।’ এসময় কক্ষের সামনে ছিল ১৭ তম ব্যাচের মুয়াজ, সাইফুলসহ আরও ৫/৬ জন। ফাহাদ কে নিয়ে তারা সবাই ২০১১ নম্বর কক্ষে যায়।

ফাহাদকে কক্ষ থেকে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর তার অ’পর দুই রুমমেট ১৬তম ব্যাচের মিজান ও ১৭ তম ব্যাচের রাফি রুমে আসে। তাদের রুমে রেখে অন্তিম পলা’শীতে কফি খেতে চলে যান।অন্তিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,

‘ফাহাদ এর সঙ্গে আমা’র ওটাই শেষ দেখা ছিল। আমাদের পরীক্ষা থাকায় রাত জেগে পড়তে হয়। তাই সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে ফাহাদ রাতে পড়তে চেয়েছিল। আমাকে ঘুমানোর আগে বলেছিল, ‘৯ টার দিকে আমাকে ঘুম থেকে তুলে দিস।’

এটাই ফাহাদ এর সঙ্গে আমা’র শেষ কথা।’ ফাহাদ কে গুরুতর পি টিয়ে আ হত করার পর তাকে কোলে করে করিডোর পার করে চার জন। ফাহাদ কে নি’র্যাতনের পর রুম থেকে তার আরেক সেট পোশাক নিয়ে যায় ছাত্রলীগকর্মী জেমি।ফাহাদ কে একদফা

মা’রধরের পর রাত ১০ টার দিকে তার রুমে (কক্ষে) জামা কাপড় নিতে এসেছিল ছাত্রলীগ কর্মী ও মেক্যানিক্যাল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুনতাসির আল জেমি। অন্তিম পলা’শী থেকে কফি খেয়ে এসে দেখেন কক্ষটি তালা দেওয়া। অ’পর দুই রুমমেট রাফি ও মিজান ওইসময় কক্ষে ছিলেন না।

তিনি চাবি নিয়ে বের না হওয়ায় অন্য দুজনের জন্য পাশের ২০১০ নম্বর কক্ষে বসে অ’পেক্ষা করেন। এর কিছুক্ষণ পর মিজান ও রাফি কক্ষে এলে তারা তিনজন কক্ষে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ১০টার দিকে ফের জেমি ওই কক্ষে এসে ফাহাদের জামা কাপড় চায়। তারা বুঝতে পারেন, ফাহাদ র‌্যা গিংয়ের শি কার হয়েছেন।

একই ব্যাচের হলেও জেমি ছাত্রলীগ নেতা, সে ফাহাদ পরিধেয় গ্রামীণ চেকের একটি শার্ট ও একটি ট্রাউজার নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আব’রারের লা’শের গায়ে গ্রামীণ চেকের সেই শার্টটি দেখা যায়। সেটিও ছেঁড়া ছিল। জেমি যখন জামা কাপড় নিতে আসে, তখন তার রুমমেটরা ফাহাদের খবর জানতে চায়।

জেমি তাদের জানায়, ‘ফাহাদ ঠিক আছে।’ ফাহাদের রুমমেট অন্তিম বলেন, ‘‘এভাবে অনেককেই তারা বিভিন্ন সময়ে ডেকে নিয়ে ‘টর্চার’ করে ছেড়ে দিতো। খা’রাপ লাগলেও সাধারণ ছাত্রদের কিছুই করার ছিল না।

আম’রা ভাবছি, হয়তো এখন ফাহাদ কে ছেড়ে দেবে। তাকে হয়তো রেস্টে থাকতে দিয়েছে। আমি যখন খেতে যাই তখন একবার তানিমকে নিচে দেখি। তাকে অস্থির দেখাচ্ছিল। তাছাড়া জেমি আমাদের সহপাঠী, সে ফাহাদ কে মে’রে ফেলবে, এটা বুঝতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০ টার দিকে আমি, মিজান ভাই (১৬ তম ব্যাচ),

রাফি যখন রুমে আসি তখন আমাদের রুমে ব্যাচমেট ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাইফুল আসে। তার মুখ শুকনা দেখায়। আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম ফাহাদের কী’ অবস্থা? সে বললো ঠিক আছে।

আম’রা তাই আর কিছু সন্দেহ করিনি।’হ’ত্যা কা ণ্ডকে মা’দক দিয়ে গ’ণপি টুনির নাট’ক সাজাতে চেয়েছিল ছাত্র’লীগ: ফাহাদের মোবাইল ও ল্যাপটপে শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু না পাওয়ার পর তার কক্ষে মা’দক রেখে তার বি রুদ্ধে অ’ভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বুয়েট ছাত্র’লীগের এসব নেতা-কর্মী।

তবে সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মী বিষয়টি ফাহাদের কক্ষের অন্য সহপাঠীদের জানিয়ে দেয়। বিষয়টি জেনে ওই নেতাদের চাতুরি ঠেকাতে ১০১১ নম্বর কক্ষটির দরজা জানালা সব বন্ধ করে দেয় শিক্ষার্থীরা।

ওই কক্ষের পাশের একটি কক্ষের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা (ছাত্রলীগ) চেয়েছিল ১০১১ কক্ষে মা’দক রাখবে। আম’রা পরে কক্ষটি পাহারা দেই। সবাই ঘুম থেকে ওঠার পর ছাত্রলীগ ধীরে ধীরে গা ঢাকা দেয়। তারপরও ফাহাদের কক্ষ আম’রা পাহারা দেই।’

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমাদের (পু’লিশকে) খবর দিয়েও পরবর্তীতে তারা আর হলে ঢুকতে দেয়নি।

তারা বলছিল, ‘শিবির ধ’রা পড়েছে, তাকে নিয়ে যান।’ কিন্তু, থানা পু’লিশ গেলে তাদের হলে ঢুকতে দেয়নি।

তারা লা’শ অনেকক্ষণ আ’ট’কে রেখেছিল। পরে শিক্ষকরা আসার পর আম’রা লা’শ ঢামেক হাস*পাতালে পাঠাতে সক্ষম হই।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 kantarpollinews
Design BY NewsTheme