আবরারকে নিয়ে মর্মস্পর্শী বর্ণনা স্বজনদের

আবরারকে নিয়ে মর্মস্পর্শী বর্ণনা স্বজনদের

আবরারের মতো ভালো ছেলে এ পৃথিবীতে হয় না। সে দেশের একটা সম্পদ ছিল। সে কোন রাজনীতি করতো না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। কারো সাথে উচ্চস্বরে কথা বলত না। বই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। আম’রাই তার মৃ’ত্যুকে মেনে নিতে পারছি না।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

আর বাবা-মা মানবে কিভাবে? আম’রা আমাদের ছেলেকে হারিয়েছি এখন আমাদের একটাই চাওয়া। আমাদের সন্তানকে জানোয়ার গুলো যেভাবে ক’ষ্ট দিয়ে নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করেছে ঠিক সেভাবে ওদেরকে মা’রা হলেই আমাদের মন শান্তি পাবে। আম’রা ম’রেও শান্তি পাবো।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

কা’ন্না জ’ড়িত কণ্ঠে মনের ভেতরে জমে থাকা ক’ষ্টগুলো প্রকাশ করেছেন বুয়েটে নি’হত আবরার ফাহাদের চাচী শিউলি আক্তার। গত ৭ অক্টোবর বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নি’র্যাতন করে হ’ত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

শিউলি আক্তার জানান, আবরার দুই ঈদে বাড়িতে আসত। তাছাড়া কোনো বাড়িতে অনুষ্ঠান থাকলে তখন আসতো। দাদা দাদীর কথা মনে পড়লে মাকে সাথে নিয়ে বেড়াতে আসত। বাড়িতে আসলে বেশিরভাগ সময় ছোট ভাইবোনদের নিয়ে মোবাইলে গেমস খেলতো এবং গল্প করতো।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

এখানে আসলে ও ভাজা পিঠা খেতে খুব পছন্দ করত এবং গোশত ও রুটি খেত। আবরার মায়ের সাথে মা’র্কে’টে গিয়ে কেনাকা’টা করতেও খুব পছন্দ করত।গত বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার রায়ডাঙ্গায় আবরার ফাহাদের গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রামটি যেন আবরারের মৃ’ত্যুতে শোকাচ্ছন্ন।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

আবরারের মৃ’ত্যু সারাদেশের মানুষকে যেভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে তার ছাপ কোন অংশে কম পরেনি তার নিজ গ্রামে। আবরারের বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় উঠানে বসে মহিলারা কথা বলছিল। এ সময় কথা হয় আবরারের চাচী শিউলি আক্তারের সাথে।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

তার সাথে যখন কথা হয় এই প্রতিবেদকের পাশ থেকে গ্রামের মহিলারা বলছিল ‘এমন সোনার ছেলেরে মানুষ ক্যামনে মা’রে?’ আবরারের পাশের বাড়ির এক নারী বলেন, আবরার খুব ভালো ছেলে ছিল। আম’রা ওকে নিয়ে খুব গর্ব করতাম। আমা’র মেয়েকে সবসময় আবরারের মতো হওয়ার জন্য বলতাম।

আবরারের মৃ’ত্যু আমি কোনভাবে মেনে নিতে পারছি না। আবরারের মৃ’ত্যুর খবর শুনে এলাকার খুব কম মানুষ আছে যারা কা’ন্না করেনি। আবরারের মতো ছেলে লাখে একটাও হয় না।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়্ ৭ বছর বয়সী আবরার ফাহাদের চাচাতো ভাই মো. আবির জানায়, ভাইয়া যখনই বাড়িতে আসতো আমা’র জন্য চকলেট ও চিপস্ নিয়ে আসতো। ভাইয়া বেশিরভাগ সময় টিভি দেখতো। যখন নামাজে যেতো তখন আমাকে সাথে নিয়ে যেতো।

মাঝে মধ্যে বিকেলে তাকে কাঁধে নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে বের হতেন বলেও জানায় সে। আবরারের ফুফু শামসুন্নাহার জানান, আবরারের বাবারা ৫ ভাই ও ৫ বোন। চাচা ও ফুফুদের নয়নের মনি ছিল আবরার।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

ছোট বেলা থেকে আবরার শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিল। তিনি বলেন, আবরারের মাঝে আমি সবসময় এক প্রকার আল্লাহ ভীতি লক্ষ্য করতাম। ও ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত নামাজ পড়তো।

তিনি আরো জানান, আবরার বেশিরভাগ সময় বাড়িতে আসলে ঘরে বসে থাকতো, টিভি দেখতো এবং নামাজে যেত। বাড়িতে ও যখন নামাজে যেতো তখন ছোট সব কাজিনদের সাথে করে ম’সজিদে নিয়ে যেতো। এটা ছিলো আবরারের একটি বড় গুণ।

মাঝে মধ্যে বিকেলে আবরার চাচাতো-ফুফাতো ভাই বোনদের নিয়ে ঘুরতে বের হতো বলেও জানান তিনি। এ সময় শামসুন্নাহার আবরারের ছোটবেলার কিছু ছবি বের করে দেখিয়ে কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

আবারের ফুফু শামসুন্নাহার আরো জানান, ছোটবেলা থেকে আবরারের ৪ নম্বর চাচা আমিরুল ইস’লাম তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল। আমিরুল ইস’লামের সাথেই আবরার সবচাইতে বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। আবরারের চাচা আমিরুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আবরারের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না, বলেই কা’ন্না করে দেন।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, আবরার যখন ছোট ছিল, আমি তখন কুষ্টিয়ায় ছিলাম। প্রায় প্রতিদিন আমি ওকে দেখার জন্য যেতাম। ও খুব শান্ত স্বভাবের হওয়ায় আমা’র খুব ভালো লাগতো। আবরার কখনো কোন বাজে আবদার করতো না।

এমনকি ওকে কখনো কোথাও আমি আড্ডা দিতে দেখিনি। আবরার স্কুলে যেতো, স্কুল থেকে সরাসরি বাসায় চলে আসতো। এটাই ছিল ওর নিয়মিত রুটিন। ওকে না দেখলে বুঝা যাবে না যে মানুষ কতটা নিয়মতান্ত্রিক জীবন পরিচালনা করতে পারে।

bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21
bdbarta21

আবরারের চাচা রবিউল আলম বলেন, আমাদের স্বপ্ন ছিল আবরার বড় হয়ে দেশের জন্য কোন কিছু আবিষ্কার করবে। ওকে নিয়ে আমাদের পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল।

কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস আমাদের সেই সন্তান লা’শ হয়ে ঘরে ফিরেছে। আমাদের স্বপ্নগুলো একটা ঝড় এসে ধ্বংস করে দিল। ওর সাথে কা’টানো দিনগুলো সারাজীবন সৃতি হয়েই থাকবে। কখনো যা ভুলতে পারব না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 kantarpollinews
Design BY NewsTheme