সর্বশেষ:
সোলায়মান শিপনের রম্য লেখা ‘সিটি গোল্ড বাংলাদেশ’

সোলায়মান শিপনের রম্য লেখা ‘সিটি গোল্ড বাংলাদেশ’

দোস্ত কি হইছে?
নুসরাত মারা গেছে।
কোন নুসরাত? ও আচ্ছা, শুনছিলাম আগুনে পুড়াইয়া নাকি মারছে একটা মেয়েরে। আহারে…
দোস্ত চল্ একটা মানববন্ধন করি। ইভেন্ট খুলি। 
অবশ্যই খুলুম। তনুর পাশে ছিলাম। নুসরাতের পাশেও থাকুম।
দোস্ত নুসরাত কিন্তু মাদ্রাসা পড়ুয়া ছিল। 
তো কি হইছে! মাদ্রাসায় পড়ুক আর স্কুল-কলেজে পড়ুক। নুসরাত তো আমাদের সোনার বাংলারই একজন। 
জানস নুসরাতকে যে মারছে সে না একজন শিক্ষক ছিল।
দেখছস আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। এই হইলো আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের অবস্থা। 
আরে দুর ব্যাটা কি কস! নুসরাতরে যে মারছে, যে রেপ করছে ও তো একটা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিল।
কি? কি কইলি তুই? না মানে আবার ক’তো বিষয়টা ভালোভালে বুইঝা লই।
দোস্ত মাদ্রাসার এক হুজুরে করছে কামডা। 
দাঁড়া, দাঁড়া ইভেন্ট টা কি খুইলা ফেলছস? দেখি তোর মোবাইলটা একটু দেখি।কই না খুলছ নাই। আচ্ছা শোন্ দোস্ত তুই থাক্। আমার একটু কাজ আছে।
কি রে কই যাস? ইভেন্ট খুলমু না?
নারে দোস্ত। আমি খুব ব্যস্তরে। একটু সমস্যা আছে। তাছাড়া সামনের মাসে আবার পরীক্ষা।
ঐ ব্যাটা। দাঁড়া। এত পাগল হইছস ক্যান? সামনের মাসে তো আমারো পরীক্ষা।
আসলে একটা কথা বলি। তুই কিছু মনে করিস না। 
বল্। 
শোন্ দোস্ত। যাই করছ্ না কেন্। এই দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসবে এমন কিছু কখনো বলবি না, এমন কি ফেইসবুকে পোস্টও করবি না। পোস্ট করবি দেখবি শুর শুর কইরা তোর ফলোয়ার কমতাছে। আর এলাকাবাসীরা যদি তোর ফেইসবুক ফ্রেইন্ড হয় তাইলে তো কাম সারা। কাউরে মুখ দেখাইতে পারবি ব্যাটা? তোর কাছে কোনো ভালো ফ্যামিলির মাইয়া বিয়া দিবো? তোর ছোটবইনরেও তো এলাকার কোনো ভালো জায়গায় বিয়া দিতে পারবি না। 
কি কছ্-আবোল তাবোল। একজন ধর্ষক, খুনির বিরুদ্ধে কথা বললে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হয় কিভাবে? ধর্ম কি খুন ও ধর্ষণ করাকে সমর্থন করে।
আহা! তোরে আমি বুঝাইতে পারতাছি না। ধর্মগ্রন্থে এইসবের নিষেধ আছে। কিন্তু এই দেশের মানুষ ধর্ম-এর থেকে ধর্মীয় লেবাস রে বেশি শ্রদ্ধা করে। এরা তো ধর্মীয় গ্রন্থ দিয়া ধর্মকে বিচার করে না। ধর্মকে বিচার করে ধর্মীয় গুরুদের দিয়া। আচ্ছা দে তোর মোবাইল ডা দে।
মোবাইল দিয়া কি করবি? 
আরে দে না। 
বাবুল করিমের মোবাইল হাতে নিয়া একটা স্ট্যাটাস দিলো। স্ট্যাটাসে ধর্ষকের একটা ছবি দিয়া লেখলো- এরা মাদ্রাসার কিছু জানোয়ার। এইসব হুজুরদের জন্যই আজকে ইসলাম ধর্মের এত বদনাম। আমি এই হুজুরের ফাঁসি চাই।
১০ মিনিটের মাথায় ফটাফট কিছু কমেন্টস্ স্ক্রিনে ভেসে উঠল। 
প্রথম কমেন্টস্- ওই ব্যাটা মুখ সামলাইয়া কথা ক। শালা ইসলামের শত্রু।
দ্বিতীয় কমেন্টস্- এই যে নতুন করে আবার এক নাস্তিকের আবির্ভাব হয়েছে।
তৃতীয় কমেন্টস্- ভালোভাবে খোঁজ নিয়া দেখেন মেয়েটার চরিত্রে কোনো দোষ ছিল কিনা। খামাখা হুজুরদের পেছনে লাগছেন। এত মাইয়া থুইয়া হুজুরের কি এই মাইয়াডারেই পছন্দ হইলো।
চতুর্থ কমেন্টস্- নাস্তিক!
পঞ্চম কমেন্টস্- স্কুল কলেজের শিক্ষকরা করলে তো কিছু কন্ না। যত দোষ মন্দ ঘোষ। হুজুর দেখলেই আপনাদের সমস্যা।
৬ষ্ঠ কমেন্টস্- মাদ্রাসায় পড়ছে বলেই মেয়েটা এখন বেহেস্তে যাবে।যদিও দোজখের যন্ত্রণা কিছুটা ইহজগতেই পেয়ে গেছে!!!
৭ম কমেন্টস্- এত ক্ষুদ্র নলেজে এইটুকু ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি না। অল্প বিদ্যা ভয়ংকর ভাই।

দোস্ত কমেন্টস্ গুলো পড়্। 
করিম কমেন্টস্ গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ল। করিমের চোখে জল।
দোস্ত কান্দিস না। আসলে দোস্ত একটু আগে যে তোরে বলছিলাম না যে সোনার বাংলা। আসলে দোস্ত আমাদের দেশটা সিটিগোল্ড রে দোস্ত। পুরাটাই সিটিগোল্ড।
আমরা তাহলে কি করব এখন?
অপেক্ষা।
কিসের অপেক্ষা। সত্যিকার ইসলাম প্রতিষ্ঠা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা। একটা অদৃশ্য দাজ্জাল আমাদেরকে গ্রাস কইরা রাখছে রে। এই লেবাসী ইসলাম আর চেতনার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আমরা জীবিত হইতে পারুম না। ততদিন পর্যন্ত আমরা মইরাই থাকি। এইটাই আমাদের জন্য ভালো হইবো।
আর নুসরাত? নুসরাত কি ন্যায় বিচার পাইবো না, দোস্ত।
জানি না রে…। আমি জানি না। নাও পাইতে পারে। আবার পাইতেও পারে। তবে এই বিষয়ে আমারে জড়াইস না। তুই ও জড়াইস না। 
হায়রে সিটি গোল্ড বাংলাদেশ। হায়রে সিটিগোল্ড……………



Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 kantarpollinews
Design BY NewsTheme